গাজা যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে ৪৭ নারী ও কন্যাশিশু নিহত: জাতিসংঘ

গাজায় টানা দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নারী ও শিশুদের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির নারী বিষয়ক শাখা ‘ইউএন উইমেন’ এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালীন গাজায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রয়টার্স ও ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ এই সংঘাতের সময়ে গাজায় ৩৮ হাজারেরও বেশি নারী ও মেয়ে শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রমের প্রধান সোফিয়া ক্যালটর্প জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজায় আগের সব সংঘাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবারের প্রাণহানি। নিহতদের প্রত্যেকেই ছিলেন স্বপ্নবাজ এক একজন মানুষ, অথচ যুদ্ধের আগুনে তাঁদের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে।’

২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই বছরব্যাপী এই যুদ্ধ থামলেও গাজার পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে গাজার অর্ধেকেরও বেশি অংশ ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি সংকীর্ণ অংশটি হামাসের হাতে রয়েছে। যদিও ছয় মাস আগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেখানে এখনো রক্তপাত থামেনি। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত আরও ৭৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF) জানিয়েছে, গত ছয় মাসে গাজায় অন্তত ২১৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। শিশুদের জন্য গাজা এখনো বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান। এদিকে ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এই যুদ্ধের ফলে গাজায় প্রায় ১০ লাখ নারী ও মেয়ে শিশু তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন উদ্বাস্তু বা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে, রয়টার্স