যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় বাধা যে ৫ ইস্যু

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের তোড়জোড় চললেও, শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখবে কি না তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) ১৪ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দুই দেশের অনড় অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা মূলত পাঁচটি প্রধান ইস্যুতে থমকে আছে। দুই পক্ষের দাবির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণে সমঝোতার পথ এখন কণ্টকাকীর্ণ।

যে ৫ ইস্যুতে ঝুলে আছে চুক্তি:
১. পারমাণবিক কর্মসূচি:
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এই শর্ত মানতে নারাজ। তাদের দাবি, যেকোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে হবে, স্থায়ীভাবে নয়।

২. সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। ইরান এই প্রস্তাবকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

৩. হরমুজ প্রণালি ও অবরোধ:
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।

৪. জব্দকৃত সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা:
যেকোনো স্থায়ী চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের (২ হাজার কোটি ডলার) সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

৫. যুদ্ধকালীন বিশাল ক্ষতিপূরণ:
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় গত এক মাসে ইরানে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে, তার বিনিময়ে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার (২৭ হাজার কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করছে তেহরান। ওয়াশিংটন এই দাবিকে অবাস্তব বলে মনে করছে।

এই পাঁচটি ইস্যু সমাধান করা বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে হামলা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে কোনো অলৌকিক কূটনৈতিক সমাধান আসে কি না।