আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ঐতিহাসিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের অবমূল্যায়ন

ইরানের নেতৃত্বকে সহজেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া যাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন ধারণা মূলত ইতিহাসভিত্তিক বাস্তবতা সম্পর্কে সীমিত বোঝাপড়া থেকেই এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটন, ডিসি-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হাডসন ইনস্টিটিউটের 'সেন্টার ফর ডিফেন্স কনসেপ্টস অ্যান্ড টেকনোলজি'-এর ডিরেক্টর ব্রায়ান ক্লার্ক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক হাডসন ইন্সটিটিউট–এর এই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেইস–এর সঙ্গে আলাপে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের নেতৃত্বের প্রতি তীব্র বিরূপ মনোভাব পোষণ করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার লক্ষ্য ছিল এমন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া, যা ইরানকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিরপেক্ষ, না হয় আরও অনুকূল রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে পারে।

ব্রায়ান ক্লার্কের ব্যাখ্যায়, এটি কোনো তাৎক্ষণিক বা হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের একটি কৌশলগত চিন্তার ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্ব এমন একটি মুহূর্তকে সুযোগ হিসেবে দেখেছিল, যখন তারা মনে করেছিল ইরান দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং সেই সুযোগে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, ইরান এমন একটি রাষ্ট্র নয়, যার বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোকে সহজেই বিচ্ছিন্ন বা উৎখাত করা সম্ভব, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির জটিল ভারসাম্য।

তিনি আরও বলেন, এই ভুল মূল্যায়নই প্রমাণ করে যে ইরানকে বোঝার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার যথাযথ বিশ্লেষণ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাহ্যিক চাপ বা সামরিক অবস্থানের পরিবর্তন দিয়ে এমন একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো দ্রুত বদলে ফেলা সহজ নয়। সূত্র: আলজাজিরা