যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ছাত্র হত্যা: যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ঘাতক হিশাম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি ছাত্র জামিল আহমেদ লিমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহকে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লিমনের নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হিশামকে কবজায় নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের বিশেষায়িত সোয়াট টিমের অত্যন্ত নাটকীয় ও দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে এই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন পুলিশ ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ লিমনের মরদেহ পাওয়ার পরপরই তদন্তকারীরা লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহর দিকে নজর দেন। পুলিশি তদন্তে হিশামের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরপরই তাকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে ঠিক সেই সময়ই পুলিশের কাছে একটি পারিবারিক সহিংসতার কল আসে। ঘটনাটি ঘটে হিশামের বাসভবনের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায়। কল পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে হিশামের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে। কিন্তু অভিযুক্ত হিশাম পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভেতরেই অবস্থান করতে থাকেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় দ্রুত বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিমকে তলব করে। পুলিশ বাহিনী পুরো বাড়িটি ঘিরে রাখে এবং হিশাম যাতে কোনোভাবেই পালাতে না পারে তা নিশ্চিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার মধ্যে সোয়াট টিম অত্যন্ত কৌশলী অবস্থানে যায়। তারা হিশামকে আত্মসমর্পণ করতে বারবার আহ্বান জানায়।

এক পর্যায়ে সোয়াট টিমের অভিযানের মুখে এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে হিশাম আবুঘরবেহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। সোয়াট টিমের সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থানায় নিয়ে যান। পরে তাকে লিমনের হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন মেধাবী পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং দীর্ঘ ৭ দিন পর তার করুণ পরিণতি সবার সামনে আসে। রুমমেট হিশামের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন বা অন্য কোনো বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।