শর্তসাপেক্ষে কথা বলতে চাইলে ফোন করতে পারে ইরান: ট্রাম্প

দুই মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি সত্যিই সংঘাত থামাতে চায়, তবে তারা সরাসরি তাকে টেলিফোন করতে পারে। তবে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন,‘তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তবে আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে। আপনারা জানেন, সেখানে টেলিফোন আছে। আমাদের কাছে চমৎকার ও অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।’

তবে আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে কী থাকতে হবে তা তারা ভালো করেই জানে। বিষয়টি খুবই সহজ- তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। অন্যথায় আলোচনার জন্য বসার কোনো প্রয়োজন নেই।’

গত শনিবার ট্রাম্প তার বিশেষ দূত এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করার পর শান্তি প্রচেষ্টার আশা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও ওমান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার সকালে এশীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন শেয়ার বাজারের ফিউচার সূচকে পতন ঘটেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’ জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে। তবে ইরান চেয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা যেন আপাতত স্থগিত রাখা হয়। যদিও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, পরমাণু ইস্যু বাদ দিয়ে কোনো আলোচনাতেই আগ্রহী নয় হোয়াইট হাউস।