যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই জরুরি সফরে রাশিয়া গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রাজধানী তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাঘচির সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে নিবিড় আলোচনার কথা রয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আল-জাজিরাকে বলেন, মূলত দুটি প্রধান কারণে ইরান এখন রাশিয়ার মুখাপেক্ষী। প্রথমত, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন।
১. আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:
অধ্যাপক ইজাদি মনে করেন, ইরানের বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন ও ইসরায়েলি আধুনিক যুদ্ধবিমান মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। তাই তেহরান আশা করছে, রাশিয়া তাদের অত্যাধুনিক এস-৪০০ (S-400) বা সমমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করবে।
২. জাতিসংঘে ‘ভেটো’ ক্ষমতা:
রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের আনা একটি প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। ইরান নিশ্চিত করতে চায় যে, ভবিষ্যতে যেকোনো আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই বা নিষেধাজ্ঞার মুখে ক্রেমলিন তাদের রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করবে।
সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে আব্বাস আরাঘচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখাই এই সফরের লক্ষ্য। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আমাদের জন্য শক্তি জোগাবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত তেহরান-ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত চাহিদা ও অযৌক্তিক’ শর্তের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেমলিনের সমর্থন ইরানের জন্য এক ধরণের ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করছে। এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়, বরং পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর এক ধরণের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও দেখছে বিশ্ব। সূত্র: আলজাজিরা