মাথা নত করব না, অস্ত্রও ছাড়ব না: ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ প্রধানের হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলের সাথে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে নিজেদের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে তারা মাথা নত করবে না এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিজবুল্লাহ প্রধানের এই কঠোর বার্তার তথ্য জানানো হয়েছে।

নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমাদের আত্মত্যাগ অনেক বড়, তবে এটি আমাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনেরই মূল্য। দখলদারিত্ব ও অপমানের চেয়ে আমাদের জনগণ সম্মানজনক প্রতিরোধের পথকেই বেছে নিয়েছে। শত্রু যতই হুমকি দিক না কেন, আমরা পিছু হটব না এবং পরাজিতও হব না।’

তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর শক্তি ‘অসীম’ এবং ইসরায়েলি বাহিনী দীর্ঘ সময় লেবাননের মাটিতে টিকে থাকতে পারবে না।

লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে নাঈম কাসেম বলেন, যেকোনো ধরণের আলোচনার আগে ইসরায়েলকে পাঁচটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. স্থল, নৌ ও আকাশপথে সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
২. লেবাননের সকল দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার।
৩. ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি লেবানিজদের মুক্তি।
৪. বাস্তুচ্যুত জনগণকে নিরাপদে তাঁদের নিজ নিজ শহর ও গ্রামে ফেরার সুযোগ দেওয়া।
৫. যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা।

হিজবুল্লাহ প্রধান লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পরোক্ষ আলোচনার পথ বেছে নেওয়া উচিত। একই সাথে তিনি গত মার্চে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান, যেখানে হিজবুল্লাহ ও এর সমর্থকদের কর্মকাণ্ডকে ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কাসেমের মতে, বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে লেবাননের অভ্যন্তরীণ সংলাপে মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তবে হিজবুল্লাহর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল তাদের দমাতে সফল হয়নি এবং বর্তমানে রণক্ষেত্রে এক ধরণের ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে।