ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটি কার্যত ‘অপমানিত’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার কোনো স্পষ্ট পথ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সামনে নেই।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জার্মানির মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে চ্যান্সেলর মের্ৎস এসব কথা বলেন।
যেকোনো যুদ্ধে প্রবেশের চেয়ে বের হওয়া যে অনেক বেশি কঠিন, তা মনে করিয়ে দিয়ে মের্ৎস বলেন, ‘আমরা দেখেছি- ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে কী হয়েছে। ইরাকের অভিজ্ঞতাও একই রকম। এখন ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরণের চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
চ্যান্সেলর মের্ৎস দাবি করেন, ইরানি নেতারা ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভূমিকার কারণে একটি সুপারপাওয়ার জাতিকে ইরানি নেতৃত্বের কাছে ‘অপমানিত’ হতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দ্রুত এই সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়ে মের্ৎস বলেন, এই যুদ্ধের আঁচ ইতোমধ্যেই ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতে পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং এর ফলে আমাদের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ জার্মানির অর্থনৈতিক উৎপাদনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে জার্মানি আগ্রহী হলেও মের্ৎস শর্ত দিয়েছেন যে- কোনো ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একটি কার্যকর ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রয়োজন। এদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাদেফুল পারমাণবিক হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা রুখতে ফ্রান্স ও জার্মানি বর্তমানে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জার্মানির এই মন্তব্য ওয়াশিংটন ও বার্লিনের মধ্যকার সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইউরোপের গভীর উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ। সূত্র: আল-জাজিরা