ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গম চুরির অভিযোগ ইউক্রেনের, রাষ্ট্রদূত তলব

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গম চুরিতে রাশিয়াকে সহযোগিতার এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল থেকে চুরি করা গম নিয়ে একটি জাহাজ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় হাইফা বন্দরে নোঙর করেছে। এই ঘটনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) কিয়েভে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউক্রেন।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে একটি আনুষ্ঠানিক ‘প্রোটেস্ট নোট’ বা প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছে। কিয়েভের দাবি, ‘এবিনস্ক’ নামের একটি জাহাজ কয়েক দিন আগে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলের গম নিয়ে হাইফা বন্দরে নোঙর করেছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিয়াহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনকে চাপে রাখতে পরিকল্পিতভাবে আমাদের গম চুরি করে বাইরে বিক্রি করছে। ইসরায়েল যদি এই চোরাই মাল খালাসের অনুমতি দেয়, তবে তা রাশিয়ার অবৈধ বাণিজ্যে সহযোগিতার শামিল হবে। এতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এর আগেও হাইফা বন্দরে এমন ঘটনা ঘটলে ইসরায়েলকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য অভিযোগের পর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার। তিনি ইউক্রেনের অভিযোগকে ‘তথ্য-উপাত্তহীন’ বলে দাবি করেন।

আন্দ্রি সাইবিয়াহর উদ্দেশ্যে গিদেওন সার বলেন, ‘প্রিয় মন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক টুইটার বা মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। আপনি অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। মিডিয়ায় যাওয়ার আগে সরাসরি আমাদের জানানো উচিত ছিল।’ 

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কৃষি পণ্য ও খাদ্যশস্য চুরির অভিযোগ রয়েছে। কিয়েভ মনে করছে, ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলো যদি এই পণ্যগুলো গ্রহণ করে, তবে তা রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকেই শক্তিশালী করবে। বর্তমানে হাইফা বন্দরে অবস্থানরত জাহাজটিকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল ধরার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।