যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি তোয়াক্কা না করেই দক্ষিণ লেবাননে অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। নতুন এক নির্দেশে দেশটির তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর বাইরে অবস্থিত সাতটি শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
রোববার (২৭ এপ্রিল) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
ইসরায়েলের দাবি, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে, যার জবাবে তারা এই ব্যবস্থা নিচ্ছে। নির্দেশনায় বাসিন্দাদের লিতানি নদীর উত্তর ও পশ্চিম দিকে সরে যেতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই শহরগুলো ইসরায়েলের ঘোষিত ১০ কিলোমিটার ‘বাফার জোন’-এর বাইরে অবস্থিত হলেও সেখানে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রোববার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। এছাড়া এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, তার সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ‘জোরালো’ আক্রমণ চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চালানো হামলাগুলো মূলত ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘বৈধ জবাব’। হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নাইম কাসেম গতকাল সোমবার ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের পরিকল্পিত সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে একটি ‘গুরুতর পাপ’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন এটি লেবাননকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।