ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তেহরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ খাতের সঙ্গে জড়িত ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে চীনের কিছু স্বতন্ত্র তেল শোধনাগারের (টিপট রিফাইনারি) সঙ্গে লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দপ্তর (ওএফএসি) জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পূর্বের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে কয়েক হাজার কোটি ডলারের লেনদেনে সহায়তা করেছে এবং ইরানের কথিত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে ভূমিকা রেখেছে।
ওএফএসি ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যারা ইরান সরকার বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য অর্থ দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে লেনদেন করলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে চীনের শানডং প্রদেশের স্বতন্ত্র শোধনাগারগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা ইরানি তেল আমদানি ও শোধন করে। অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ কেউ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে ডলারে লেনদেন করছে এবং মার্কিন পণ্য কিনছে। তবে চীন এই একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।
ইরান যুদ্ধ থামাতে দুই মাস ধরে চলা প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির। তেহরানের সাম্প্রতিক এক প্রস্তাব নিয়ে অসন্তুষ্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সংঘাত বন্ধ এবং নৌ-চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ না মেটা পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হবে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারের নিষেধাজ্ঞা মূলত সেই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যারা আইআরজিসিসহ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে ইরান অবৈধভাবে তেল বিক্রির টাকা পায়, ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ কেনে এবং নিজেদের ছায়া বাহিনীগুলোতে অর্থ পাচার করে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এটি এমন সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা বৈশ্বিক বাণিজ্যকে ব্যাহত করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এই নেটওয়ার্ককে সহায়তা করবে, তাদের মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।