ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন চরম বিপাকে।
তেহরানের যথোপযুক্ত ও দাঁতভাঙা জবাবে আমিরাতের জানমালের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তা তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের লেজুড়বৃত্তি করে কোনো লাভ নেই। এই যুদ্ধের আগুনে পুড়ে আমিরাত এখন ছাই হয়ে যাওয়া অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নিজের মিত্রদের ওপর বিষোদ্গার করছে।
বিশেষ করে সৌদি আরবের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের কথিত বন্ধুত্বের ফাটল এখন এক গভীর খাদে পরিণত হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো কেন তাদের রক্ষায় এগিয়ে এলো না, এই ক্ষোভ থেকে আমিরাত এখন নিজের পথ আলাদা করার ঘোষণা দিচ্ছে।
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধ কেবল আমিরাতের আর্থিক কোমরই ভেঙে দেয়নি, বরং আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ অন্তঃসারশূন্য ঐক্যকেও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান ক্ষোভ কেবল আরব বিশ্বের ওপর নয়, বরং খোদ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর।
আবু ধাবির নীতি নির্ধারকরা এখন উচ্চকণ্ঠে বলছেন যে, তারা তাদের সব সম্পর্ক আর জোট নতুন করে খতিয়ে দেখবেন।
দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, জিসিসি বা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল ভূমিকা পালন করেছে। যখন আমিরাতের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটির কারণে ইরানের পাল্টা আঘাত আছড়ে পড়ছিল, তখন সৌদি আরব বা অন্য প্রতিবেশীরা কার্যত হাত গুটিয়ে বসে ছিল।
আমিরাতের ধারণা, এই যুদ্ধে তারাই সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে এবং তাদের মিত্ররা কেবল তামাশা দেখেছে। এই তিক্ততা এতটাই বেড়েছে যে, আমিরাত এখন ওপেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল জোট থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সরাসরি সৌদি আরবের নেতৃত্বে থাকা তেল রাজনীতির গালে এক বড় চপেটাঘাত।
তেল বাজার নিয়ে এই লড়াই এখন প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ওপেকের কোটা না মেনে আমিরাত নিজের মতো তেল উৎপাদন বাড়াতে চায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমিয়ে দিয়ে সৌদি আরবের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক আক্রমণ।
দুবাইতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের ঘোর বিরোধী এক সাংবাদিককে অতিথি করে এনে রিয়াদকে সরাসরি অপমান করেছে আবু ধাবি। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সৌদি আরব যখন এই অঞ্চলের নেতা হওয়ার দাবি করে, তখন বিপদের সময় তারা মুখ লুকিয়ে থাকে।
সৌদি সংবাদ মাধ্যমগুলোও বসে নেই, তারা আমিরাতের এই আচরণকে 'মূর্খতা' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।
জেদ্দায় হওয়া জরুরি বৈঠকেও দুই দেশের মধ্যে বরফ গলেনি। ইয়েমেন থেকে শুরু করে ইরানের সাথে যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই সৌদি আরব আর আমিরাত এখন একে অপরের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী।
আসলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আমিরাত এখন বুঝতে পারছে যে, প্রতিবেশী ইরানের সাথে বৈরিতা আর আমেরিকার ওপর অন্ধ নির্ভরতা তাদের কেবল ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দিয়েছে। সূত্র : তাসনিম নিউজ