ইরানে হামলার জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এক নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাদ্য এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সরবরাহ শুরু হয়েছে। যা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে, পেন্টাগন ইরানে আরও বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’ (USS Delbert D. Black)-এ প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ তোলা হচ্ছে। এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা শক্তিশালী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-কে বিশেষ কারিগরি ও রণকৌশলগত সহায়তা দিচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঝসমুদ্রে যুদ্ধজাহাজে এভাবে বড় আকারে রসদ সরবরাহ করা হয় তখনই, যখন একটি দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পরিকল্পনা থাকে। নিয়মিত এই লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়া এত বড় নৌবহরের পক্ষে দীর্ঘ সময় সাগরে পূর্ণ সক্ষমতায় সক্রিয় থাকা সম্ভব নয়। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানে সামরিক অভিযানকে এখনই থামিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয়।

এদিকে যুদ্ধের আর্থিক খরচ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি) যুক্ত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ব্যয় এর চেয়েও বহুগুণ বেশি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক তৎপরতা পুরো অঞ্চলে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাসী এখন এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কায় রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা