সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কংগ্রেসের অনুমতি এড়াতে ‘অজুহাত’ খুঁজছেন ট্রাম্প

কুয়েত ও ইরাকে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিমান বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে আইনি বৈধতা বা অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। নানা ‘অজুহাত’ তৈরি করে কংগ্রেসের ক্ষমতাকে খর্ব করার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

১৯৭৩ সালের মার্কিন ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী কোনো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধের সময়সীমা বা ধরন এমন যে এখনই তাদের কংগ্রেসের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সিলিমান মনে করেন, ট্রাম্প আইনটির এই সময়সীমাকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা বা ‘রিডেফাইন’ করছেন।

সিলিমান বলেন, প্রেসিডেন্ট মনে করেন কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা তার আছে। তিনি সম্ভবত কংগ্রেসের কাছে অনুমতি চাওয়াকে নিজের কর্তৃত্বের জন্য অপমানজনক মনে করছেন। এমনকি তিনি এই আইনটিকে অসাংবিধানিক বলেও মনে করতে পারেন। সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, ট্রাম্প চান না এমন কোনো কিছুর জন্য অনুমতি নিতে যা তিনি বিশ্বাস করেন যে তিনি নিজের ক্ষমতাবলেই করতে পারেন।

যদিও রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্যও প্রেসিডেন্টের এই একতরফা সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, তবুও ট্রাম্প আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত কংগ্রেসের আইনি কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে নিজের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা