ইরানে হামলা শুরু করার ৬০ দিন পার হলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব ডিফেন্স ডেভিড সেডনি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। তার মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব তথ্য এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুকূলে নেই।
সেডনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ (Regime Change) যে দাবি করেছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের নেতৃত্ব এখনও অটুট রয়েছে এবং চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে দেশটি সম্ভবত তাদের সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠিত করছে। সেডনির ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকৃত তথ্য ও বাস্তবতার যুদ্ধে হেরে গেছেন।
তবে ট্রাম্প একজন দক্ষ বিক্রেতা বা ‘সেলসম্যান’ হিসেবে এই পরাজয়কেও জনগণের সামনে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন বলে তিনি সতর্ক করেন। সেডনি বলেন, এখন বড় প্রশ্ন হলো, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? মার্কিন জনগণ কি বাস্তবতাকে বিশ্বাস করবে, নাকি ট্রাম্পের সাজানো গল্পকে?
তবে কোনো বাগাড়ম্বর বা প্রচারণা দিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে আড়াল করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) বড় প্রভাব ফেলবে। সেডনি স্পষ্টভাবে জানান, যদি পেট্রোলের দাম এভাবে চড়া থাকে, তবে রিপাবলিকানরা নির্বাচনে বড় হারের সম্মুখীন হতে পারে। সাধারণ মার্কিনিদের কাছে যুদ্ধের আদর্শের চেয়ে পকেটের খরচ বা তেলের দাম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আলজাজিরা