হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom)-এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরান ঘোষণা করেছে, মার্কিন বাহিনী এই জলপথে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্ব এককভাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। ফলে এই জলপথে ‘নিরাপদ যাতায়াত বা নৌ-চলাচলের’ যেকোনো উদ্যোগ অবশ্যই ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে।
বিবৃতিতে ইরান আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনী যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে আসার কিংবা প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ইরানের এই অবস্থান ট্রাম্পের উদ্ধার অভিযানকে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই মানবিক নামধারী অভিযানে পূর্ণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানিয়েছে, আজ সোমবার থেকেই ১৫ হাজার সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান নিয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, আটকে পড়া জাহাজের নাবিকদের জীবন বাঁচাতে এবং খাদ্যসংকট মেটাতে এই পদক্ষেপ জরুরি।
বিবিসি ও আল-জাজিরার তথ্যমতে, একদিকে ট্রাম্পের ‘কঠোর মোকাবিলার’ হুমকি এবং অন্যদিকে ইরানের ‘হামলা চালানোর’ সতর্কবার্তা সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এখন এক বিশাল বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে পারস্য উপসাগরে যেকোনো মুহূর্তে একটি ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।