রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। কোনো ধরণের যৌথ আলোচনা ছাড়াই দুই দেশ পৃথকভাবে এবং ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। ম
ঙ্গলবার (৫ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ৮ ও ৯ মে দুই দিনের জন্য তারা যুদ্ধবিরতি পালন করবে। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর ওপর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের স্মৃতি স্মরণে পালিত ‘বিজয় দিবস’ (ভিক্টরি ডে) উপলক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়া আশা প্রকাশ করেছে যে, ইউক্রেনও এই পবিত্র দিনে অস্ত্র সংবরণ করবে।
এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা কাঠামো না পাওয়ার দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন নিজস্ব সিদ্ধান্তে আজ ৫ মে রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর) থেকেই একতরফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘আজ পর্যন্ত ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাব আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। আমরা রাশিয়ার বিজয় দিবসের উদযাপনের অপেক্ষায় না থেকে আজ থেকেই লড়াই থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জেলেনস্কি আরও যোগ করেন, ‘যেকোনো উদযাপনের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। কেবল উৎসবে নয়, এখনই সময় রাশিয়ার নেতৃত্বের জন্য যুদ্ধ বন্ধে বাস্তবসম্মত ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া।’
দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করায় ময়দানে এর কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। যদি এক পক্ষ আক্রমণ চালায় তবে অন্য পক্ষও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে, যা এই একতরফা যুদ্ধবিরতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।