মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘোষিত নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) ভোরে একঝাঁক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সশরীরে বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দিয়েছে আমিরাত সরকার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ইরান থেকে ধেয়ে আসা ১২টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি শক্তিশালী ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। গত এক মাসের মধ্যে এটিই ছিল আমিরাতের ওপর ইরানের সবচেয়ে বড় ও সরাসরি আক্রমণ।
হামলার তীব্রতা বিবেচনায় দীর্ঘ এক মাস পর আজই প্রথম দুবাই ও আবুধাবির সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে ‘এমার্জেন্সি অ্যালার্ট’ বা জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে বা বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমিরাতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ ৫ মে (মঙ্গলবার) থেকে আগামী ৮ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে বন্ধ থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে এই চারদিন ‘ডিসট্যান্স লার্নিং’ বা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আবারও অনিয়ন্ত্রিত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।