বিদেশি শক্তির ওপর নিরাপত্তা নির্ভরতা ছাড়ার তাগিদ ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, নিরাপত্তার জন্য অন্য কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বা নিরাপত্তা ‘ধার করার’ এই প্রবণতা বন্ধ করা উচিত। 

সোমবার (৪ মে) তেহরানে প্রেস টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কোনো সুরক্ষা দেয় না বরং এটি অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

বাঘাই বলেন, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার মাধ্যমেই এই অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা সম্ভব। তার মতে, মার্কিন ঘাঁটিগুলো বর্তমানে এক প্রকার দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

তেহরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনো প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রের প্রতি বিন্দুমাত্র শত্রুতা নেই এবং ইরান সবসময়ই পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাক্ষাৎকারে বাঘাই ওয়াশিংটনের সাথে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইরানের সতর্ক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চরম অবিশ্বাস ও সন্দেহের মধ্য দিয়ে এই আলোচনা চলছে, কারণ গত বছর এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে।

এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন তাদের আন্তরিকতা প্রমাণের সুযোগ নিতে হবে।

মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের মূল অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, কারণ এটি কেবল একটি জাতির নয় বরং পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তার সমস্ত দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সবশেষে তিনি আহ্বান জানান যে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত একটি নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেখানে বহিঃশক্তির কোনো স্থান থাকবে না।