হরমুজের পর এবার মালাক্কা প্রণালিতে নজর দিচ্ছে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করেই বিশাল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে এশিয়ার বাজারের দিকে এগিয়ে চলেছে দুটি ইরানি জাহাজ। ‘হিউজ’ এবং ‘ডেরিয়া’ নামের এই দুই বিশাল ক্রুড ক্যারিয়ার সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে। জানা গেছে, জাহাজ দুটিতে মোট ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে, যা মার্কিন অবরোধকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আন্তর্জাতিক গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এড়াতে এই বিকল্প পথ ব্যবহারের ঘটনাটি ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে এই সাফল্যের খবরের সমান্তরালেই একটি উদ্বেগজনক তথ্য ফাঁস হয়েছে। জানা গেছে, পেন্টাগন এখন ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য অবাধ ও সীমাহীন উড্ডয়ন অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই ঘটনাপ্রবাহ ইন্দোনেশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার তীব্র ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়েয়েছে। তিনি এখন পর্যন্ত একটি নিরপেক্ষ ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। মার্কিন নৌবাহিনী এখন ইরানের ছায়া জাহাজের চলাচল বন্ধ করতে মালাক্কা প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা করছে। 

মূলত জলপথে অবরোধ ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব খাটিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার পানিসীমার কাছে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

লম্বক প্রণালির গভীরতা ও প্রশস্ততা মালাক্কা প্রণালির চেয়ে বেশি হওয়ায় এবং এখানে নজরদারি কম থাকায় এটি এখন ইরানি তেলের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হয়েছে। রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাজারটি আদতে মার্কিন নৌ-আধিপত্যের সীমাবদ্ধতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। হাজার হাজার দ্বীপের এই অঞ্চলে একটি বা দুটি জাহাজকে চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও তাদের পথরোধ করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। 

তা সত্ত্বেও পেন্টাগন ইন্দোনেশিয়াকে চাপে ফেলছে তাদের শর্ত মেনে নিতে, নতুবা নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই জেদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ইরানের যুদ্ধের আগুনে টেনে নিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

এমন পরিস্থিতিতে চীনের ভূমিকার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ইন্দোনেশিয়া যাতে আমেরিকার চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে, সেজন্য বেইজিংয়ের উচিত জাকার্তাকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা এবং সামুদ্রিক শিল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনকে এখন আরও সক্রিয় হতে হবে। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে তার রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাই তার অবরোধকে চ্যালেঞ্জ জানানো যেকোনো বাজারকেই তিনি এখন নিজের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন। সূত্র: এশিয়া টাইমস