চীন ইরানকে অব্যাহত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমন ইঙ্গিতই সামনে এসেছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে আব্বাস আরাঘচি মূলত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে আলোচনা করেন। প্রথমত, তিনি চলমান সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং বেইজিংকে আশ্বস্ত করেন যে তেহরান একটি শান্তিপূর্ণ, স্থায়ী ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী সমাধানের দিকে এগোতে আগ্রহী, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত চুক্তি চায়।
দ্বিতীয়ত, এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চীন-ইরান অংশীদারিত্বের দৃঢ়তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সম্ভাব্য চীন সফর এবং তার সঙ্গে শি জিনপিং-এর বৈঠককে সামনে রেখে তেহরান চেয়েছে নিশ্চিত হতে যে, বেইজিং কোনো ধরনের সমঝোতায় তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে না।
আলোচনায় ইরান এই নিশ্চয়তাও চেয়েছে যে ভবিষ্যতেও চীন তাদের প্রতি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং বৈঠকের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বেইজিং সেই আশ্বাসই দিয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তৃতীয়ত, উভয় পক্ষ ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া এবং যুদ্ধের অবসানের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছে। এতে একটি নতুন উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ধারণাকে সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ, যেখানে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা