মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অচলাবস্থা নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি বড় ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। বুধবার (৬ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বায়ার একটি লাইভ অনুষ্ঠানে জানান, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ফোনালাপে ট্রাম্প এই চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বায়ার বলেন, “আমি যখন তাকে সম্ভাব্য সময়সীমার কথা জিজ্ঞাসা করি, তিনি জানান যে সবকিছু ঠিকঠাক চললে এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত হতে পারে।” তবে প্রেসিডেন্ট একে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রয়টার্স ও মিডল ইস্ট মনিটরের সূত্রমতে, এই সম্ভাব্য চুক্তিতে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
ইউরেনিয়াম স্থানান্তর: ইরানকে তাদের মজুতকৃত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তারা নিজেরাও একটি চুক্তিতে আসতে আগ্রহী। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অবরোধ বলবৎ রয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, প্রণালিটি মুক্ত করার বিশেষ সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর