জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, একটি ক্রুজ জাহাজে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কোনো মহামারীর শুরু নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কারখোভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি ছয় বছর আগের কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মতো নয়। কারণ হান্টাভাইরাস মূলত ‘ঘনিষ্ঠ এবং নিবিড় সংস্পর্শের’ মাধ্যমে ছড়ায়।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ডাচ জাহাজ 'এমভি হোন্ডিয়াস' থেকে সম্প্রতি নেমে যাওয়া কয়েক ডজন মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস সন্দেহে থাকা আটটি মামলার মধ্যে পাঁচটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ বছর বয়সী এক ডাচ নারীসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীর ডাচ স্বামী এবং একজন জার্মান নারীও মারা গেছেন; তাদের মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সাধারণত হান্টাভাইরাস ইঁদুর থেকে ছড়ায়—তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবে প্রথমবারের মতো মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
'ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস' পরিচালিত এই বিলাসবহুল ক্রুজটি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়ায়া থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ১০ মে স্পেনের কানারি দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জাহাজটিতে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, তবে ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনা দ্বীপে কয়েক ডজন যাত্রী নেমে যান।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান কারখোভ বলেন, ‘এটি কোভিড নয়, এটি ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়; এটি খুব ভিন্নভাবে ছড়ায়।’
তিনি জানান, এমভি হোন্ডিয়াস জাহাজে থাকা সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা সন্দেহভাজন রোগীদের সেবা করছেন, তাদের উচ্চস্তরের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস গেব্রেয়েসাস বলেন, ‘তার সংস্থা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি "কম" হিসেবে মূল্যায়ন করছে।’
তিনি জানান, প্রথম যে দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা আর্জেন্টিনা, চিলি এবং উরুগুয়েতে পাখি পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন। সেখানে এমন প্রজাতির ইঁদুর ছিল যা এই ভাইরাস বহন করে।
ডাঃ টেড্রোস আরও জানান, ‘এই রোগের সুপ্তিকাল (Incubation period) ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, তাই সামনে আরও আক্রান্তের খবর আসতে পারে।’
ওশানওয়াইড এক্সপেডিশন জানিয়েছে, ১২টি ভিন্ন দেশের ২৯ জন যাত্রী সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে নেমে গেছেন। মৃত এক ডাচ ব্যক্তির দেহও সেখানে নামানো হয়েছে।
জাহাজ থেকে নামা সাতজন ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যে দুজন বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আইসোলেশনে আছেন। বাকিদের খোঁজে তৎপরতা চলছে। স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের টিেনেরিফ থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
জাহাজটিতে বর্তমানে চারজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষ বিমান পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জর্জিয়া এবং অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে ফিরে আসা তিন যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে নামা দুই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তারা মৃত ওই ডাচ নারীর সাথে একই ফ্লাইটে জোহানেসবার্গ ভ্রমণ করেছিলেন।
ডাচ সরকারের তথ্যমতে, জাহাজটি কেপ ভার্দে যাওয়ার পথে সেন্ট হেলেনায় থামে। যে ডাচ নারী ২৪ এপ্রিল জাহাজ থেকে নামেন, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে মারা যান। তার স্বামী ১১ এপ্রিল জাহাজেই মারা গিয়েছিলেন, তবে তার শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২ মে জাহাজে এক জার্মান নারী মারা যান, যার দেহ এখনো জাহাজেই রয়েছে। এছাড়া বুধবার আরও তিনজনকে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উশুয়ায়া অঞ্চলের ইঁদুরগুলো পরীক্ষা করে দেখবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি