পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা চরমে, চলছে গণগ্রেপ্তার

অধিকৃত পশ্চিম তীরে শুক্রবার রাতভর ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও হেব্রনসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা, লুটপাট এবং ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বেথলেহেমের দক্ষিণে বেইত ফাজ্জার (Beit Fajjar) শহরে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে তার নিজ জমিতে কাজ করার সময় বসতি স্থাপনকারীরা বেদম মারধর করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া বেথলেহেমেরই তুকু (Tuqu) শহরে এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মুসল্লিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় কিছু মুসল্লিকে মসজিদের ভেতরেই আটকে রাখা হয়। বাত্তির (Battir) এলাকা থেকে চারজন ফিলিস্তিনি যুবককে হাইকিং করার সময় আটক করেছে সেনাবাহিনী।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে হেব্রনের দক্ষিণে খিরবেত শুউইকা (Khirbet Shuweika) গ্রামে। সেখানে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ও তার শিশুপুত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে বসতি স্থাপনকারীরা। এতে তাদের মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে সিলওয়াদ (Silwad) শহরে একদল সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী হামলা চালালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রতিরোধ করে। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত কয়েক দিনে বসতি স্থাপনকারীদের এই পরিকল্পিত হামলা ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড় ওই অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও মাঠ পর্যায়ে সহিংসতার কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না।