বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরালো কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের মধ্যে এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে এই রুটটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় মঙ্গলবার (১২ মে) ৪০ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের একটি সেশনের যৌথ সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্যাথরিন ভউট্রিন।
এই জোটে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা যুদ্ধের অবসানের পর ওই অঞ্চলে একটি বহুজাতিক ‘প্রতিরক্ষামূলক মিশন’ পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের সামরিক অবদানের রূপরেখা তুলে ধরবে।
এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি শক্তিশালী সামরিক কোয়ালিশন গঠন করা, যা ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে মাইন অপসারণ এবং কার্গো জাহাজগুলোকে সশস্ত্র পাহারা (escort) দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান আগে থেকেই এই অঞ্চলে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এমতাবস্থায় এই সম্মেলন থেকে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সামরিক ও কূটনৈতিক রূপরেখা আসে, তার ওপর নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। সূত্র: আলজাজিরা