ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে বাড়িয়েছে তেল সংস্থাগুলো।

শুক্রবার (১৫ মে) থেকে কার্যকর হওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের প্রধান মেট্রো শহরগুলোতে জ্বালানির দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি দিল্লি-এনসিআর এবং মুম্বাইয়ে সিএনজি-র দামও কেজিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেট্রো শহরগুলোতে নতুন হার: মূল্যবৃদ্ধির পর দিল্লির বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৭.৭৭ টাকা এবং ৯০.৬৭ টাকা। তবে কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলোতে পেট্রোলের দাম ১০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে:

  • কলকাতা: পেট্রোল ১০৮.৭৪ টাকা (বৃদ্ধি ৩.২৯ টাকা), ডিজেল ৯৫.১৩ টাকা।

  • মুম্বাই: পেট্রোল ১০৬.৬৮ টাকা (বৃদ্ধি ৩.১৪ টাকা), ডিজেল ৯৩.১৪ টাকা।

  • চেন্নাই: পেট্রোল ১০৩.৬৭ টাকা (বৃদ্ধি ২.৮৩ টাকা), ডিজেল ৯৫.২৫ টাকা।

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য ছিল

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ভারতে জ্বালানির দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে ইরান সংকট ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে ঠেকেছে।

তেলমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, প্রতিদিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা লোকসান গুণছে। যদি এই দাম বাড়ানো না হতো, তবে এক প্রান্তিকে লোকসানের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রাও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণে এই বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সরকারের আশ্বাস ও সাশ্রয়ের ডাক

জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে।

অয়েল সেক্রেটারি নীরজ মিত্তাল জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত আছে। ফলে রেশনিং করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয় করতে দেশবাসীকে জ্বালানি তেল ও ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর মতো মিতব্যয়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।