সদ্য সমাপ্ত চীন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে স্বাধীনতার ব্যাপারে সতর্ক করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটি। ট্রাম্পের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে তাইওয়ান নিজেদের একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’ রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের (পিআরসি) অধীনস্থ নয়। একই সঙ্গে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ বলে জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে দেশটির মন্ত্রণালয়।
এর আগে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিন দিনের সরকারি সফর শেষ করে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। একটি যুদ্ধ করার জন্য আমাদের সাড়ে ৯ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে আমি এমনটা চাই না। এখন যে অবস্থা (স্ট্যাটাস কু) আছে, সেটা সেভাবেই রেখে দিলে চীনেরও কোনো আপত্তি থাকবে না। ট্রাম্প অস্ত্র বিক্রিকে চীনের সঙ্গে ‘দর-কষাকষির দারুণ এক হাতিয়ার’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাইওয়ানের রাজনৈতিক মহলে ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক লেভ ন্যাচম্যান বলেন, অস্ত্রকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করে ট্রাম্প ঠিক সেই কথাটিই বলেছেন, যা তাইওয়ান কখনোই শুনতে চায়নি।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে কিছুটা নমনীয় সুর খাটিয়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একাধিকবার আশ্বস্ত করেছেন যে তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। মুখপাত্র কারেন কুও জানান, ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে চান। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তাইওয়ানের পার্লামেন্ট মার্কিন অস্ত্র কেনার জন্য আড়াই হাজার কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল অনুমোদন করেছে, যার ভাগ্য এখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলছে। সূত্র: এএফপি