যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন সাবেক মার্কিন মধ্যস্থতাকারী অ্যালান আয়ার। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের এই গবেষক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের জায়গাটি একেবারে শূন্যের কোঠায় রয়েছে।
ইরানের সাথে আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অ্যালান আয়ার বলেন, "ইরানিদের সাথে আলোচনার কোনো গোপন বা জাদুকরী সূত্র নেই। তারা অন্য সবার মতোই। তারা নিজেদের কাজে অত্যন্ত দক্ষ। তারা তাদের নথিপত্র, ইতিহাস এবং খুঁটিনাটি সব বিষয় খুব ভালো করেই জানে। এখানে মূল বিষয় হলো আলোচনার জন্য সঠিক সময় দেওয়া।"
একটি কার্যকর ও ব্যাপকভিত্তিক পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে "গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদী আলোচনা" প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন একটি কার্যকর পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য নিজেদের সব কাজ ফেলে, এক ঘরে বন্দি হয়ে দীর্ঘ সময় দেওয়ার মতো মানসিকতা বা প্রস্তুতি রাখছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
অ্যালান আয়ারের মতে, আলোচনার জন্য পূর্ণ বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না। কারণ পূর্ণ বিশ্বাস থাকলে আলোচনারই দরকার হতো না, মানুষ কেবল শত্রুদের সঙ্গেই আলোচনা বা চুক্তি করে। তবে আলোচনার গতি বাড়াতে ন্যূনতম কিছু আস্থা বা বিশ্বাস তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের আগের সরকারের তুলনায় ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি কঠোর এবং সামরিক মনোভাবাপন্ন। এই বর্তমান নেতৃত্ব বিশ্বাস করে যে ওয়াশিংটন এবং ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে উৎখাত করতেই কাজ করছে। ফলে ইরান আশঙ্কা করছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের বিরতি বা স্থবিরতা আসলে পরবর্তী বড় হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করা হবে; যা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী মেয়াদের নির্বাচনের পরেই ঘটতে পারে।