ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর আরও কঠোর হয়েছে। তেহরানকে সরাসরি হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছালে দেশটির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত এগোতে হবে। না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়টা অত্যন্ত জরুরি!’
চীনের গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরেই গত শনিবার ভার্জিনিয়ায় নিজের গলফ ক্লাবে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। সিএনএন-এর তথ্যমতে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণ করতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্রগুলো বলছে, ইরান যেভাবে কূটনৈতিক আলোচনা পরিচালনা করছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তাতে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ইরানকে সমঝোতায় বাধ্য করতে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে।
একদিকে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে শলা-পরামর্শ করছেন, অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড়। গতকাল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। পাকিস্তান বর্তমানে এই সংকটে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প তার নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে ইরানের ওপর চূড়ান্ত সামরিক চাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সূত্র: সিএনএন