পাকিস্তান সরকারের সক্রিয় মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রস্তাব এবং শর্তাবলীর সংশোধনী বিনিময়ের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তেহরান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুয়ায়ী, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা না হলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে কূটনৈতিক বারতা ও প্রস্তাব আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক এই প্রক্রিয়ার শুরুতে ইরান একটি ১৪-দফার প্রস্তাবনা পেশ করেছিল, যা ওয়াশিংটন প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে সেই দূরত্ব কমিয়ে আনতে তেহরান নতুন একটি রূপরেখা প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে কিছু সুনির্দিষ্ট সংশোধনী তেহরানে পাঠানো হয়েছে। ইরান সেই প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তাদের হালনাগাদ অবস্থান পুনরায় পাকিস্তানকে অবহিত করেছে। তবে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও বেশ কিছু মৌলিক ইস্যুতে উভয় পক্ষই এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছে।
এই আলোচনার সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের জাতীয় স্বার্থের অংশ এবং এটি কোনোভাবেই আলোচনা বা আপসের বিষয় নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দিয়েছে যে ইরানকে আগামী অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে দুই দশকের এই সময়সীমাকে অত্যন্ত দীর্ঘ এবং অযৌক্তিক বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে পর্দার আড়ালের খবর বলছে যে, ইরান এই বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে পারে। তারা ২০ বছরের পরিবর্তে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং জব্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়ার দাবিগুলো নাকচ করে দিয়েছে। যদিও ইসমাইল বাঘাই এই খবরগুলোকে কেবল জল্পনা-কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও এটি স্পষ্ট যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকে আরও বড় ধরণের ছাড় দিতে হবে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি কতটুকু সফল হয়, তা দেখার জন্য বিশ্ব রাজনীতি এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। সব মিলিয়ে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি।
সূত্র: আলজাজিরা