গাজায় ময়দা এবং জ্বালানি আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ফলে উপত্যকার বেকারিগুলো চাহিদানুযায়ী রুটি উৎপাদন করতে পারছে না। এতে গাজার সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য এই রুটির জন্য শুরু হয়েছে তীব্র হাহাকার।
ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ফলে গাজার অধিকাংশ মানুষই এখন বাস্তুচ্যুত। টিকে থাকার জন্য তারা এখন হাতেগোনা কয়েকটি চালু থাকা বেকারির সামনে ভর্তুকি মূল্যের রুটির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে।
তপ্ত রোদে রুটির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ১৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ আল-রৌবি জানায়, তার চাচার পরিবার এবং তারা একই বাড়িতে গাদাগাদি করে বাস করে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রুটির প্রয়োজন হয় বলে সে এবং তার চাচাতো ভাই আলাদা আলাদা লাইনে দাঁড়ায়। অনেক দিন এমনও হয় যে, রুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, গাজায় প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ টন ময়দার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ২০০ টন ময়দা প্রবেশ করতে পারছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল গাজার সীমান্ত পারাপারগুলো বন্ধ করে দেয়। পরে সেগুলো আংশিক খুললেও পণ্য সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির শর্ত থাকলেও ইসরায়েল তা মানছে না।
গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) সরবরাহকৃত আটার ওপর নির্ভরশীল। সেখানে এক প্যাকেট রুটির দাম ১ ডলারের আশেপাশে রাখা হলেও বাজারে এর সংকট প্রকট। ৭২ বছর বয়সী বিধবা মায়সার আবু রেকাব জানান, তাদের পরিবারের কেউই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের চড়া দামে রুটি কিনতে হচ্ছে। আগে এক প্যাকেট রুটির দাম যা ছিল, তা এখন বেড়ে ১০ থেকে ১৫ শেকেলে (প্রায় ৩.৪৫ থেকে ৫.১৭ ডলার) দাঁড়িয়েছে।
রুটি সংকটের পাশাপাশি গাজায় রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। আগে প্রতি ছয় সপ্তাহে একবার গ্যাস পাওয়া গেলেও এখন তিন মাস পরপর তা পাওয়া যাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে লাকড়ির দামও আকাশচুম্বী। বেকারির কর্মী শাদি আবু ঘারকুদ জানান, ময়দার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে তারা বিপাকে পড়েছেন। জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেলের দাম এখন লিটার প্রতি প্রায় ২,০০০ শেকেল (প্রায় ৬৮৯ ডলার), যা অবিশ্বাস্য।
গত বছরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের স্মৃতি এখনও গাজাবাসীর মনে টাটকা। নতুন করে এই খাদ্য সংকট তাদের সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যখন মানুষ এক টুকরো রুটির অভাবে মারা যাচ্ছিল। মানবিক এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আগেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনিরা। অন্যথায় গাজা আবারও এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা