গ্যাস ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ওপর ঝুঁকছে সৌদি আরব

ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে গ্যাস সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে সৌদি আরবে। ফলে আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে দেশটিকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের (ফুয়েল অয়েল) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বাজার বিশ্লেষকরা এই পূর্বাভাস দিয়েছেন।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে সৌদি আরবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বাড়তি বিদ্যুতের জোগান দিতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায়, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার যে লক্ষ্য কিংডম নির্ধারণ করেছিল, তা মারাত্মক ধাক্কা খেল বলে রয়টার্স উল্লেখ করেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক এই দেশটিকে সম্প্রতি দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি খনিজ তেল উৎপাদন কমাতে হয়েছে। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে 'স্ট্রেট অব হরমুজ' (হরমুজ প্রণালি) অবরুদ্ধ বা ব্লক করে দেওয়ায় রাস তানুবা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়। আর তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, তেলের সাথে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের এই তীব্র ঘাটতি মেটাতে সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'সৌদি আরামকো' গত এপ্রিল মাসেই তাদের জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়ে প্রায় ১৭ লাখ টনে নিয়ে গেছে। এই আমদানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকৃত এই তেলের সিংহভাগই বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রের সাথে যুক্ত জেদ্দা সাউথ এবং শুকাইক স্টিম এর মতো বন্দর বা ডকগুলোতে খালাস করা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা