ইসরায়েলের ‘বাস্তুচ্যুতি আতঙ্কে’ লেবাননের টায়ার শহর

লেবাননের ঐতিহাসিক টায়ার শহরের একটি নির্দিষ্ট বহুতল ভবনের ওপর আবারও নতুন করে বাধ্যতামূলক স্থানান্তরের (বাস্তুচ্যুতি) নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েল কর্তৃক ঘোষিত ৫০০ মিটারের এই ‘বিপদ অঞ্চল’ বা ডেঞ্জার জোনের ঠিক শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

চলমান যুদ্ধের গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের মানুষকে অসংখ্যবার এমন বাধ্যতামূলক বাস্তুচ্যুতির আদেশের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিটি নতুন নির্দেশ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক একটি ভয়াবহ জীবননাশের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ইসরায়েলের এই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আদেশের পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে শত শত মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বিপদ অঞ্চলের ঠিক বাইরে অবস্থান করছে অ্যাম্বুলেন্স, উদ্ধারকারী দল এবং ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষ।

অনেকেই তাদের কোলের শিশু ও পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ে তারা ঠিক কবে নাগাদ ফিরে যেতে পারবেন, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে তাদের কারোরই কোনো জানা নেই।

দক্ষিণ লেবাননের এই শহরটিতে ইসরায়েল বর্তমানে এক ধরনের তীব্র ‘মানসিক সন্ত্রাস’ (Psychological terror)-এর পরিবেশ তৈরি করেছে, যার মধ্যে প্রতিদিন বেঁচে থাকতে হচ্ছে লেবানিজ পরিবারগুলোকে।

গতকাল সারাদিনের প্রায় পুরোটা সময়ই টায়ার শহরের চারপাশজুড়ে তীব্র ও অবিরাম বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আকাশজুড়ে টহল দিচ্ছে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান। তবে রাত নেমে এলেও এই আতঙ্কের অবসান ঘটেনি; ঘরছাড়া মানুষগুলো এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে চরম উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষা করছেন—ঠিক কখন ইসরায়েলের চিহ্নিত করা সেই ভবনটির ওপর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি এসে আঘাত হানবে। সূত্র: আল জাজিরা