ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকটের মাঝেই অস্ট্রেলিয়ায় ডিজেল ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় সর্বকালের রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জাপান বা অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার বাজারও এই যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত। জলবায়ু নীতি বিশ্লেষক টিম ব্যাক্সটার জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বাজারে ডিজেলের দাম "খুব দ্রুত" বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক সময়ের মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষক ব্যাক্সটারের মতে, দাম এতটা অস্বাভাবিক বাড়ার পরও মার্চ মাসে দেশটিতে ডিজেলের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের তেল মজুত বা স্টকপাইল করার প্রবণতা এই চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে খুবই সামান্য ভূমিকা রেখেছে; বরং সামগ্রিকভাবেই দেশটিতে ডিজেলের ব্যবহার বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই রেকর্ড ডিজেল ব্যবহার দেশটিকে এক বড় ধরনের জ্বালানি ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়া তাদের ব্যবহৃত পেট্রোল ও ডিজেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই আমদানিকৃত তেলের সিংহভাগই আসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শোধনাগার (Refineries) থেকে, যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল সংগ্রহ করে থাকে।
বিশ্লেষক টিম ব্যাক্সটার স্পষ্ট করে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক হামলা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডিজেল সরবরাহের যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বা গোলযোগের মুখে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।