গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সাহায্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া ফ্লোটিলার (ত্রাণবাহী জাহাজ বহর) অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা এসব স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠকদের দাবি, অন্তত ১৫ জন অ্যাক্টিভিস্টকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়েছে এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গত মঙ্গলবার ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ৫০টি জাহাজে অভিযান চালিয়ে ৪৩০ জন অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার তাদের ইসরায়েল থেকে তুরস্কে deport (বহিষ্কার) করা হয়।
'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'র সংগঠকরা টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানিয়েছেন, "অন্তত ১৫টি যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। খুব কাছ থেকে রবার বুলেট ছোড়া হয়েছে এবং বহু মানুষের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।"
আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে রোমে পৌঁছানো ইতালীয় অর্থনীতিবিদ লুকা পোগি রয়টার্সকে বলেন, "আমাদের পোশাক খুলে ফেলা হয়েছিল, মাটিতে ছুড়ে ফেলে লাথি মারা হয়েছে। অনেকের ওপর টেজার (বৈদ্যুতিক শক) গান ব্যবহার করা হয়েছে, কয়েকজনকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে এবং আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।" একই সাথে আদ্রিয়েন জুয়ান নামের এক ফরাসি নাগরিকের পিঠে ও হাতে থাকা গুরুতর আঘাতের ক্ষতচিহ্নের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেরিফাই করেছে রয়টার্স। ফরাসি সংগঠক সাবরিনা চারিক জানিয়েছেন, পাঁচজন ফরাসি নাগরিককে পাঁজরের হাড় ও মেরুদণ্ড ভাঙা অবস্থায় তুরস্কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জার্মানি জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং অভিযোগগুলো অত্যন্ত "গুরুতর"। ইতালির আইনি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রোমের প্রসিকিউটররা অপহরণ, নির্যাতন এবং যৌন নির্যাতনের মতো সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত শুরু করেছেন এবং ফিরে আসা ইতালীয় নাগরিকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, ৪৪ জন স্প্যানিশ নাগরিকের মধ্যে ৪ জনকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কারাগারে বন্দি অ্যাক্টিভিস্টদের মাটিতে চেপে ধরে ব্যঙ্গ করার একটি ভিডিও পোস্ট করার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সুইডেনে ন্যাটো বৈঠকের ফাঁকে জানিয়েছেন, বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমকক্ষদের সাথে আলোচনা করছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, "উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। সমস্ত বন্দিকে আইন মেনে এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে পেশাদার কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।" সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান