যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ট্যাংকার থেকে মারাত্মক বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান লিক (পড়তে) শুরু করায় ৪৪ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ায় জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটি (ওসিএফএ) জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গার্ডেন গ্রোভ শহরে গত বৃহস্পতিবার প্রথম এই রাসায়নিক লিকের ঘটনাটি ঘটে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে।
ওসিএফএ-এর ডিভিশন চিফ ক্রেইগ কোভি সাংবাদিকদের বলেন, এখন মূলত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—হয় ট্যাংকটি ভেঙে পড়বে, না হয় এটি বিস্ফোরিত হবে। তিনি জানান, সংকটে থাকা ৩৪,০০০ গ্যালনের (১২৮,৭০৪ লিটার) ওই ট্যাংকটিতে 'মিথাইল মেথাক্রাইলেট' (methyl methacrylate) রয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং উচ্চ দাহ্য তরল রাসায়নিক, যা অ্যাক্রিলিক প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাসায়নিকটি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যাওয়ার ফলে ট্যাংকটির সিস্টেম বিকল হয়ে পড়ে এবং বাতাসে বিষাক্ত বাষ্প ছড়াতে শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত এই ট্যাংকের পাশেই আরও দুটি রাসায়নিক সংরক্ষণের ট্যাংক রয়েছে। যদি প্রধান ট্যাংকটিতে 'থার্মাল রানঅ্যাওয়ে' (অতিরিক্ত উত্তাপের ফলে অনিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া) ঘটে, তবে এটি বিস্ফোরিত হয়ে পাশের জ্বালানি ও রাসায়নিকের ট্যাংকগুলোকেও আঘাত করবে। অন্যথায় এটি ভেঙে পড়ে চারপাশের পার্কিং লটে প্রায় ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ গ্যালন বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে দিতে পারে।
ওসিএফএ-এর আরেক ডিভিশন চিফ নিক ফ্রিম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং বর্তমান অবস্থায় এটি তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য 'কন্টেনমেন্ট ব্যারিয়ার' (সুরক্ষা প্রাচীর) তৈরি করেছেন, যেন বিষাক্ত উপাদানগুলো কোনোভাবেই ড্রেন, নদী বা সাগরে গিয়ে না মেশে। কর্মকর্তারা বলছেন, বিস্ফোরণ হয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ার চেয়ে তরল আকারে এটি নিচে ছড়িয়ে পড়াটাই হবে তুলনামূলক 'ভালো পরিস্থিতি'।
ট্যাংকের ভেতরের রাসায়নিকটি ঠিক কী কারণে অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ অঞ্চলের বাতাস পরীক্ষা করছে এবং এখন পর্যন্ত বাতাসের মান ‘নিরাপদ সীমার’ মধ্যে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়াতে বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি