তৃণমূলের কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ৯ মে রাজ্যে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পৌরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। ইতোমধ্যে সাতটি পৌরসভার শতাধিক কাউন্সিলর, পৌরপ্রধান ও উপ-পৌরপ্রধান তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে অনেক জায়গায় প্রশাসনিক সংকট ও নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পৌরসভাগুলোর মধ্যে হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, কাঁথি ও ডায়মন্ড হারবার উল্লেখযোগ্য। পদত্যাগী নেতাদের অনেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নমূলক ভাবনার প্রশংসা করেছেন। তাদের দাবি, এতদিন দলীয় চাপে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি।

উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ বলেন, ‘জনমত এখন বর্তমান সরকারের পক্ষে, তাই নৈতিকভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার কোনো অর্থ হয় না।’ অন্যদিকে, ভাটপাড়া পৌরসভার উপ-পৌরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষ জানান, প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এবং উন্নয়নের গতি বজায় রাখতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজ্যে বকেয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রতিটি পৌরসভায় সরকার পক্ষ থেকে ‘পৌর প্রশাসক’ (EO) নিয়োগ করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সংগঠন যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, এই গণপদত্যাগ তারই স্পষ্ট প্রতিফলন। যেভাবে ২০১১ সালে দ্রুত তৃণমূলের উত্থান হয়েছিল, এখন ঠিক সেভাবেই দলটি পতনের মুখে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।