ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে থেকে যাওয়া বা নতুন করে আসা অনুপ্রবেশকারীদের আর কোনো ‘জামাই আদর’ করা হবে না। তাদের আটক করে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) নদীয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কল্যাণীতে একটি বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘তাড়াতাড়ি পালাও, নয়তো সরকার ব্যবস্থা নেবে’
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি হিন্দিতে কড়া ভাষায় বলেন,
"জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায় সরকার করেগা (তাড়াতাড়ি পালাও, নয়তো সরকার যা করার তা-ই করবে)।"
জনগণের ট্যাক্সের টাকা নষ্ট করতে রাজি নন শুভেন্দু
অনুমতিহীন অনুপ্রবেশকারীদের তীব্র সমালোচনা করে এই বিজেপি নেতা বলেন, "তাদের জেলে বসিয়ে খাইয়ে আমরা জনগণের করের (ট্যাক্স) টাকা নষ্ট করতে চাই না।
তারা ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করছে। এই সংক্রান্ত আইন আগে থেকেই ছিল, কিন্তু ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে অতীতে কিছু দল তা প্রয়োগ করেনি। আমি শুধু একটাই কথা বলব—তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ভাগ আর আমরা কাউকে দেব না।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা পুলিশকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, অনুপ্রবেশকারীদের জেলে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। দেশের পয়সায় তারা খাবে, সরকারি ওষুধ নেবে, জামা-কাপড় পরবে কেন? তারা কি জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো!"
পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’
উল্লেখ্য, কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটকে রাখার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ইতিমধ্যেই ‘আটক শিবির’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও বিএসএফের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে বিজেপি।