অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা জোরদার করার পাশাপাশি সেখানকার ৭০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা ও তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি বোর্ড) আসলে একটি কাল্পনিক অবয়ব বা নামমাত্র সংস্থা মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন এক শীর্ষ বিশ্লেষক।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর সিনিয়র ফেলো খালেদ এলগিন্দি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন।
খালেদ এলগিন্দি জানান, ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং তাঁর গঠিত শান্তি বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকার অর্ধেকের সামান্য বেশি এলাকা জুড়ে থাকা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা অতিক্রম করতে পারবে না।
কিন্তু নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই গর্ব করে দাবি করছেন যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাৎ তারা যুদ্ধবিরতির শর্তে থাকা ‘হলুদ রেখা’ বহু আগেই ছাড়িয়ে গেছে। এলগিন্দি মনে করেন, এই ৭০ শতাংশের ঘোষণা কেবল শুরু মাত্র। এমন সব লক্ষণ স্পষ্ট যে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া এবং সেখানকার জনগণকে তাড়িয়ে এলাকাটি সম্পূর্ণ খালি করে ফেলা।
তত্ত্বগতভাবে ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডের কাজ ছিল গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অভিভাবক ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা। কিন্তু খালেদ এলগিন্দির মতে, বাস্তবে এই সংস্থাটি একটি রূপকথা বা কাল্পনিক অবয়ব ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, এই বোর্ডের বাহ্যিক রূপটি বহুপাক্ষিক (বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ সম্বলিত) মনে হলেও, পর্দার আড়াল থেকে আসলে পুরো বিষয়টি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই বোর্ডের বিশেষ দূত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শান্তি বোর্ডের ১৯ জন সদস্যের কাছ থেকে কোনো আদেশ নেন না, বরং তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন। মূলত ‘বোর্ড অব পিস’ নামক এই কৃত্রিম খোলসের আড়ালে থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কলকাঠি নাড়ছে। সূত্র: আল জাজিরা