মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তির বিষয়ে নানা ইতিবাচক দাবি করা হলেও বেশ সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া নানা শর্ত ও আদেশের সুরকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কড়া ভাষায় বলেন, ইরান আজ থেকে ৪৭ বছর আগেই ‘অবশ্যই করতে হবে’-এরকম আদেশের ভাষা বা হুকুমদারিকে বিদায় জানিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ইরান কোনো চাপের মুখে পড়ে সিদ্ধান্ত নেয় না, বরং ইরানি জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা বিবেচনা করেই কেবল তেহরান যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গ টেনে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেটিকে ‘অবরোধ’ বলছে, ইরানের দৃষ্টিতে তা এই যুদ্ধের শুরু থেকেই একটি সম্পূর্ণ অবৈধ পদক্ষেপ ছিল। একই সাথে এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবাধ জাহাজ চলাচল এবং যুদ্ধবিরতির নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকা নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা আসলেই বাস্তবে কার্যকর করা হচ্ছে কি না—ইরান এখন সেটিই দেখতে চায়। নাকি পুরো বিষয়টি আমেরিকার কেবলই একটি ‘অপপ্রচার বা সস্তা প্রচারণা’, তা সময় নির্ধারণ করবে।
ইরানের এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া থেকে এটি স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটনের মতো তারা এখনই চুক্তি নিয়ে মাতামাতি করতে রাজি নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, আলোচনার পথ উন্মুক্ত থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার মূল ও প্রধান বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও সম্পূর্ণ অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সূত্র: আল জাজিরা