জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়ালো অস্ট্রেলিয়া

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নিজেদের অভ্যন্তরীণ জরুরি মজুদ থেকে পেট্রোল ও ডিজেল ছাড় করার বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বাওয়েন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে (শনিবার) এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বাওয়েন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমাগত চলতেই থাকায় তিনি এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই জরুরি মজুদ ব্যবহারের নমনীয়তা বা সুযোগ অব্যাহত রাখা দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছেন।

মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের ঘাটতি সামাল দিতে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক বা প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত মার্চ মাসে প্রথম এই জরুরি মজুদ ব্যবহারের নিয়ম চালু করা হয়েছিল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জুলাই মাসে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

মন্ত্রী ক্রিস বাওয়েন জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও অস্ট্রেলিয়া তাদের কৌশলগত জ্বালানি মজুদে একটি সন্তোষজনক অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার কাছে বর্তমানে ৪৮ দিনের পেট্রোল, ৩৬ দিনের ডিজেল এবং ৩০ দিনের জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) মজুদ রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বা সর্বোচ্চ স্তরের জ্বালানি মজুদ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি এবং অত্যন্ত জটিল সাপ্লাই চেইনের মধ্যেও এই পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রাখতে পারাকে একটি "অসাধারণ সাফল্য" হিসেবে বর্ণনা করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সূত্র: আল জাজিরা