লেবাননের ইতিহাসে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় গণ-বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অনবরত হামলা ও হুমকির মুখে দেশজুড়ে এক ভয়াবহ ও তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা সামাল দিতে লেবানন সরকার পুরোপুরি হিমশিম খাচ্ছে।
গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে এ পর্যন্ত ১০ লাখের (এক মিলিয়ন) বেশি লেবাননি নাগরিক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ‘জহরানি নদী’র উত্তরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ মানুষ নদী পার হয়ে উত্তর দিকে গেলেও সেখানে এই বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় নেওয়ার মতো তেমন কোনো সুযোগ বা বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় লেবাননজুড়ে বিভিন্ন স্কুল, সরকারি ভবনসহ নানা স্থানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৬০০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিই ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমার বাইরে চলে গেছে এবং তিল ধারণের জায়গা নেই। ফলে নতুন করে যারা সাময়িকভাবে একটু আশ্রয়ের খোঁজ করছেন, বাধ্য হয়ে তাঁদের কোনো আত্মীয়ের বাড়ি, ভাড়াবাড়ি কিংবা হোটেলে উঠতে হচ্ছে।
যাঁদের সামর্থ্য নেই—এমন সিংহভাগ (বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ) মানুষের আশ্রয় মিলছে শহরের পাবলিক পার্কগুলোতে অথবা খোলা আকাশের নিচে টানানো তাঁবুতে। রাজধানী বৈরুতের বহু এলাকায় দেখা গেছে, শত শত মানুষ ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কোনো রকমে বেঁচে থাকার জন্য তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর এই ঘটনাকে লেবাননের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুত সংকট হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যা দেশটির পুরো শাসন ও সেবা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছে। সূত্র: আল জাজিরা