দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘হানওয়া অ্যারোস্পেস’ (Hanwha Aerospace)-এর একটি রকেট জ্বালানি উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ জুন) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কারখানার অন্তত ৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর দগ্ধসহ আহত হয়েছেন আরও ২ জন।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর কারখানার ভেতরে আগুন ধরে গেলে দুজন শ্রমিক কোনোমতে নিজেদের চেষ্টায় জ্বলন্ত ভবন থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তাঁদের মধ্যে একজনের শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।
একই ব্রিফিংয়ে একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে নিহতদের মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এই কারণে কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি।"
ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, মৃত ৫ জনের সবাই হানওয়া কোম্পানির নিজস্ব কর্মচারী এবং এর মধ্যে দুজন বিশোর্ধ্ব (২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী) খণ্ডকালীন কর্মী ছিলেন।
দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেজন-এ অবস্থিত এই কারখানাটিতে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখে মুহূর্তের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কাছে প্রায় ৩০টি জরুরি কল আসে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, রকেট প্রোপেলান্ট বা জ্বালানি তৈরির যন্ত্রপাতি থেকে যখন পানি দিয়ে বিস্ফোরক উপাদান পরিষ্কার করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট ও আসল কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে কারখানার ভেতরের মানচিত্র বা লেআউট পাওয়া নিয়ে। কারখানাটি বড় বড় প্রপালশন ইঞ্জিন তৈরি এবং রকেটের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জ্বালানি নিয়ে কাজ করায় এটি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে সুরক্ষিত। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিস বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার ভেতরের সম্পূর্ণ লেআউট বা নকশা হাতে পায়নি।
এই ঘটনার পর হানওয়া অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন জে-ইল এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা নিহতদের এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।" একই সাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকারি তদন্ত সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই দেশের শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে কোম্পানিটি। দুপুরের ট্রেডিংয়ে ‘হানওয়া অ্যারোস্পেস’-এর শেয়ারের দাম ২.৮ শতাংশ পড়ে গেছে। পাশাপাশি এর মাদার বা হোল্ডিং কোম্পানি ‘হানওয়া কর্পোরেশন’-এর শেয়ারের দামও ৩.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং এই দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক টেক্সট বার্তায় জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা মোকাবিলায় দেশের উপলব্ধ সমস্ত সম্পদ ও শক্তি নিয়োজিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে বলেছেন। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট