ইসরায়েলকে থামানোর শক্তি নেই, তবে যুদ্ধকে 'ব্যয়বহুল' করতে পারে হিজবুল্লাহ

লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং বেশ কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি কৌশলগত পাহাড়ের চূড়াও রয়েছে, যেখানে একটি মধ্যযুগীয় দুর্গ অবস্থিত।

২০০০ সালে দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে চলে যাওয়ার আগে, এই দুর্গটি টানা দুই দশক ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাহিনীকে লেবাননের আরও গভীরে ঢোকার নির্দেশ দিয়েছেন।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ের চূড়া থেকে পুরো দক্ষিণ লেবাননের ওপর নজর রাখা সম্ভব, এমনকি উপকূলভাগ পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায়। এখান থেকে দক্ষিণ লেবাননের ‘নাবাতিয়াহ’ শহরের ওপরও কড়া নজরদারি চালানো সম্ভব, যা হিজবুল্লাহর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব মূলত মাঠপর্যায়ে একটি বড় সাফল্য দেখাতে মরিয়া। কারণ, দক্ষিণ লেবানন দখল করে রাখা ইসরায়েলি সেনা এবং উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ ক্রমাগত সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, যা ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে ইসরায়েলি নেতৃত্ব তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হিজবুল্লাহ তাদের রকেট হামলার তীব্রতাও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ইসরায়েলের আরও ভেতরের অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ যদি এই ড্রোন ও রকেট হামলা অব্যাহতও রাখে, তবুও তাদের পক্ষে একটি আগ্রাসী ও আক্রমণকারী সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এটি যুদ্ধের মূল গতিপথ পরিবর্তন করার জন্যও যথেষ্ট নয়।

তবে হিজবুল্লাহ যা করতে পারে তা হলো—ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য এই সামরিক অভিযানকে অত্যন্ত ‘ব্যয়বহুল’ ও চড়া মূল্যের  করে তোলা। অন্যদিকে, ইসরায়েল এই অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর ওপর এমনভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে যাতে তারা হামলা বন্ধ করে এবং অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়। কিন্তু হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের এই শর্তে সম্মত হতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। সূত্র: আল জাজিরা