লেবাননের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির।
আন্তর্জাতিক মহলের নানা গুঞ্জন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেই ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইসরায়েলের হাইফায় অবস্থিত একটি নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধান ইয়াল জামির এই মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং টাইমস অব ইসরায়েল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে একটি নামমাত্র ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের এই অনড় বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তেল আবিব আদতে সেই যুদ্ধবিরতি মানছে না। তার এই মন্তব্যের পর লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কেটে গেছে।
ওয়াশিংটন বৈঠক নিয়ে সংশয়
বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইসরায়েল এবং লেবানন সরকারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চতুর্থ দফার বৈঠক চলছে ওয়াশিংটনে। তবে এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। এর প্রধান দুটি কারণ হলো:
ইসরায়েলের অনড় অবস্থান: সেনাপ্রধানের স্পষ্ট ঘোষণা যে, মাঠপর্যায়ে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই।
হিজবুল্লাহর বিরোধিতা: লেবাননের ইরান-সমর্থিত রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এই কূটনৈতিক আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
একদিকে হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যান, অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন বজায় রাখার মানসিকতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ওয়াশিংটনের চলমান বৈঠক কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা।