অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ১৬ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ডেভিড সালিভান। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ওঠা ‘মিথ্যা অভিযোগের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সালিভান বলেন, “অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর এবং ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে ক্লাব, এর সমর্থক এবং ভবিষ্যতের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডও এক বিবৃতিতে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ক্লাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের কিছু গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনার কারণে সালিভান ডব্লিউএইচ হোল্ডিং লিমিটেড ও ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডে তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর কোনোটি ক্লাব বা এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও জানানো হয়েছে।
সালিভানের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করিম ভিরানি পরিচালনা পর্ষদের কাছে রিপোর্ট করে ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি করবেন। এতে ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সালিভানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিবিসির ‘প্যানোরামা’ এবং দ্য টাইমস যৌথভাবে একটি তদন্ত পরিচালনা করছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পর্নোগ্রাফি, সংবাদপত্র ও ফুটবল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সালিভান এসব খাত থেকে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বিবিসি জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি শিগগিরই সম্প্রচার ও প্রকাশ করা হবে।
তবে সালিভান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার দাবি, গণমাধ্যমে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তিনি বাস্তবে তেমন ব্যক্তি নন।
২০০০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ওয়েস্ট হ্যামের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সালিভান। ক্লাবের আধুনিক যুগের নানা গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের তত্ত্বাবধান করেছেন তিনি। চলমান তদন্তের মধ্যেই তার পদত্যাগ ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।