ট্রাম্পকে 'হতাশাগ্রস্ত' বললেন মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর তাদের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনও সাধারণ এলাকায় অবস্থান করবে। এই পদক্ষেপের পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত হতাশা থেকে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এই চুক্তিটি করেছেন।

গত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম জনসমক্ষে আসা মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন, কিছু বিষয়ে ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অধিকার রক্ষা করবেন—এমন আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি চুক্তিটি অনুমোদন করেছেন। তবে ওয়াশিংটনের সাথে ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হলেও তা শত্রুর অবস্থান মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।

ট্রাম্প খামেনির বক্তব্যের সরাসরি জবাব না দিলেও ট্রুথ সোশ্যালে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতসহ সকল ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে। মূলত ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই মার্কিন-ইরান চুক্তিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার শর্ত এবং দেশটির পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের প্রতিশ্রুতি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান রাখা বাধ্যতামূলক নয়। 

এই চুক্তিটি উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য করে। সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে যে, দূর থেকে চুক্তিটি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে পরবর্তী প্রযুক্তিগত আলোচনার জন্য মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সুইজারল্যান্ডে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার এই সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পকে নিজ দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠন তহবিলের বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের সময় পাশে থাকার জন্য ওয়াশিংটনের প্রশংসা করলেও, নতুন এই চুক্তির পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সংঘাত ইরানের যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং হিজবুল্লাহও এই চুক্তির শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরায়েলকে ইরানের সঙ্গে এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে এবং বৈরুতে বেসামরিক নাগরিক হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সূত্র: বিবিসি