পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে টানা চার দিনের সহিংসতায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৫৪ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ফলে চার দিনের সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ জন।
বুধবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, গত ৬ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তার দাবি, এসব হামলায় জড়িত ছিল ‘ভারতের মদতপুষ্ট’ সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ৪ ও ৫ জুলাই মধ্যবর্তী রাতে হান্না উরাক এলাকায়। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়।
এতে চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হন। স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় হামলাটি হয় ৬ জুলাই মাঙ্গি বাঁধের কাছে একটি পুলিশ চেকপোস্টে। আইএসপিআর জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক গোলাগুলিতে ১৫ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়।
তবে এ ঘটনায় নয়জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান। পরে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে একই দিন জিয়ারতের পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আইএসপিআরের দাবি, সেখানে আরও ১১ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযানে মোট ২৬ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত এবং ২৭ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সফল হবে।
আইএসপিআরের দেওয়া এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।