ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় মার্কিন নৌ অবরোধ আরোপ করার পর, বুধবার (১৫ জুলাই) দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুই দফায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে প্রথম দফায় ৯০ মিনিট ধরে ইরানের ‘গ্রেটার তুনব’ দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে হামলা চালানো হয়। এর ঠিক ৯ ঘণ্টা পর ইরানের একাধিক শহর লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফার হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলায় ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
হামলার শিকার শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বন্দর আব্বাস, যেখানে ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং আইআরজিসি-র প্রধান নৌঘাঁটি অবস্থিত। এছাড়া কেশম, সিরিক, কোনারক এবং আহভাজ শহরেও একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরইবি (IRIB) জানিয়েছে, আহভাজ শহরে একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছে মার্কিন হামলা আঘাত হানলে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে খালি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি রাজধানী তেহরানেও সম্ভাব্য শত্রু হুমকি মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেনসিলভানিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন সামিটে বেশ বিজয়ী ও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, আমরা খুব দ্রুতই ইরানকে পরাজিত করব। ইরানীরা এখন একটি সমঝোতায় আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা আমাদের পদক্ষেপগুলো পছন্দ করছে না।
তিনি আরও জানান যে, মার্কিন আলোচকরা ইতিমধ্যে ইরানি পক্ষকে একটি চুক্তিতে আসার জন্য কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স