ইরানি সামরিক স্থাপনায় টানা ষষ্ঠ রাতের মতো মার্কিন বিমান হামলার পর, শুক্রবার (১৬ জুলাই) উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নতুন করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
গত মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এখন প্রতিদিন হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও গুঁড়িয়ে দিতে তারা বন্দর আব্বাস ও কিশম দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়েছে। ফাইটার জেট, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে চালানো এই হামলায় ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং নৌ সক্ষমতার কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি সেতু, বন্দর খামির উপকূলীয় রেল স্টেশন এবং ইরানশহর বিমানবন্দর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
মার্কিন হামলার জবাবে শুক্রবার ভোরে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সেখানে একটি শিশু স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এর আগে জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটিও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল তেহরান।
এই চরম উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল আবারও প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে। গত বুধবার থেকে তেহরান এই প্রণালিতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করে এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে।
রয়টার্সের সূত্রমতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের প্রধান অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হানে, তবে ইয়েমেনের হুথিদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালিও বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই ধরনের কর্মকাণ্ড মুখ বুজে সহ্য করবেন না এবং এর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প কূটনীতির পথও খোলা রেখেছেন বলে তিনি জানান।
ইরান চাইছে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সমস্ত জাহাজ যেন তাদের উপকূলের কাছাকাছি চ্যানেল দিয়ে চলাচল করে এবং ৬০ দিনের আলোচনা শেষে তারা সেখান থেকে যাতায়াত ফি বা শুল্ক আদায় করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে ওমান উপকূল ঘেঁষে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র উপকূলীয় সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে ইরানের প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইলেও, ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, এই কৌশল কাজ করবে না। কারণ ইরান তার ভূখণ্ডের যেকোনো প্রান্ত থেকেই এই প্রণালিতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল 'খার্গ দ্বীপ' দখলে নিতে স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। একই সাথে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তেহরান আলোচনায় না ফিরলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে আঘাত হানার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সূত্র: ডন